খুব নিশীথে

রোমেল চৌধুরী এর ছবি
লিখেছেন রোমেল চৌধুরী [অতিথি] (তারিখ: রবি, ১৮/০৯/২০১১ - ৭:৫৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

খুব নিশীথে জলের তিয়াস পেলে
হাতড়ে ফিরি তীব্র কালাহারি
বরফ শীতল জলের গেলাস ফেলে
শুয়েই থাকি বিষণ্ন বিচ্ছিরি

খুব দুপুরে নির্জনতা চিরে
যখন ডাকে অচিন উদাস পাখি
অলস সুখে নিজের মাঝেই ফিরে
স্মৃতির কাপে আলতো চুমুক রাখি

খুব অতলে তলিয়ে যাবার আগে
গ্লাসের ঠোঁটে চুমু খাওয়াই বেশ
রতির নেশায় শরীর যখন জাগে
রয় কি সেথায় প্রথম প্রেমের রেশ?


মন্তব্য

সৈয়দ আফসার এর ছবি

খুব অতলে তলিয়ে যাবার আগে
গ্লাসের ঠোঁটে চুমু খাওয়াই বেশ
রতির নেশায় শরীর যখন জাগে
রয় কি সেথায় প্রথম প্রেমের রেশ?

উত্তম জাঝা!

রোমেল ভাই,
ভালো থাকুন।

__________♣♣♣_________
না-দেখা দৃশ্যের ভেতর সবই সুন্দর!

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

আফসার ভাই,
বহুদিন পর আপনার দেখা মিললো। প্রতিটি মিলনই সুখের। এবারের দেখা তো শুধু আফসার ভাইয়ের সাথে নয়, সচল আফসার ভাইয়ের সাথে। সচলাভিনন্দন! আপনার কবিতা বহুদিন পড়ি না, তৃষা জমে আছে!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

সুমন তুরহান এর ছবি

হাতড়ে ফিরি তীব্র কালাহারি

এই লাইনটি অভিনব সুন্দর রোমেল ভাই। কালাহারিকে এভাবে বাংলা কবিতায় উপস্থাপন করা হয়নি বোধহয়।

'তীব্র কালাহারি' ... আগামী অনেকদিন এই শব্দগুচ্ছ মগজে গেঁথে থাকবে।

-----------------------------------------------------------
স্নান স্নান চিৎকার শুনে থাকো যদি
নেমে এসো পূর্ণবেগে ভরাস্রোতে হে লৌকিক অলৌকিক নদী

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ভালোবাসায় ভেসে ভেসে যাই!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

কৌস্তুভ এর ছবি

দাদা, কবিতাটা তো ভাল লাগল, এটাকে কোন ছন্দে পড়তে হবে সেটা একটু বুঝিয়ে বলুন না, আমি যেভাবে পড়ার চেষ্টায় আছি সেটা ঠিক কি ভুল তা শিখি।

মৃত্যুময় ঈষৎ(Offline) এর ছবি

আমার কাছে স্বরবৃত্তে মনে হল। ১০ মাত্রার পঙ্ক্তি। ৪+৪+২।
যেমনঃ
শু য়েই্ থা কি(৪)/ বি ষণ্ ণ বিচ্(৪)/ ছি রি(২)//

---------------------
রয়্ কি সে থায়্(৪) প্র থম্ প্রে মের্(৪) রেশ্(১), তবে এই শেষ পঙ্ক্তিতে কনফিউজ্ড হয়ে গেলাম, স্বরবৃত্ত নাও হতে পারে।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

তুমি ঠিক আছো।
আগেই বলেছি জিরিয়ে নেবার প্রয়োজন মেটাতেই অসম্পূর্ণ পর্ব। জিরিয়ে নেবার অসম্পূর্ণ পর্বে এক বা দুই মাত্রা যাই দাও না কেন ক্ষতি নেই। শুধু একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, যদি কবিতায় অন্ত্যঃমিল থাকে তবে মিলান্ত চরণগুলোর মাত্রা যেন সমান থাকে।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

এটি স্বরবৃত্তে। খেয়াল করতে হবে শব্দের মধ্যে ক্লোজড সিলেবল এবং ওপেন সিলেবল ক'টি আছে। কারন স্বরবৃত্তের মূল বিষয়টিই আবর্তিত হয় এই দু'টি সিলেবলকে ঘিরে। ক্লোজড সিলেবলের কপালে জুটবে ১ মাত্রা তা সে শব্দের আগে পরে যেখানেই হোক। যেটি অক্ষরবৃত্ত কিংবা মাত্রাবৃত্তে নেই। ওপেন সিলেবলে অক্ষর গুনে গুনে মাত্রা।

স্বরবৃত্তের সবচেয়ে মধুর চালটি হলো চার মাত্রার। মানে এক একটি পূর্ণ পর্ব হবে চার মাত্রার। তবে শুধু টগবগিয়ে চলতে থাকলেই তো চলে না। মাঝে মধ্যে একটু জিরিয়ে নেয়া চাই। তাই পূর্ণ পর্বের শেষে এক/দুই মাত্রার অসম্পূর্ণ পর্ব জুড়ে দিলে স্বরবৃত্তের পাগলা ঘোড়ার একটু জিরোবার অবকাশ মিলে।

খুব নিশীথে (সম্পূর্ণ পর্ব) / জলের তিয়াস (সম্পূর্ণ পর্ব) / পেলে (অসম্পূর্ণ পর্ব)
খুব (বদ্ধ) নিশীথে (মুক্ত) / জ (মুক্ত) লের(বদ্ধ) তি (মুক্ত) য়াস(বদ্ধ)/ পেলে (মুক্ত)
খুব (১) নিশীথে (৩) / জ (১) লের(১) তি (১) য়াস(১)/ পেলে (২)
খুব নিশীথে (১+৩=৪) / জলের তিয়াস(১+১+১+১=৪)/ পেলে (১+১=২)

মানে স্বরবৃত্তের ৪+৪+২ চাল।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

কৌস্তুভ এর ছবি

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। স্বরবৃত্ত বই পড়ে জেনেছি, তবে বোঝার ক্ষেত্রে এখনও একটু অস্বচ্ছন্দ থাকি মাঝে মাঝে। আপনার আলোচনা খুব সহজভাবে বুঝিয়ে দিল আরেকবার।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আমার এ'কথা বলার ধৃষ্টতা নেই যে এই কবিতা শক্তিগন্ধী। তবে কেন যেন কবিতাটি পড়ে শক্তিকেই মনে পড়ল। আজ রাতে হলুদ-কালো মলাটের বইটি নিয়ে বসতে হবে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

আহা, শক্তি চট্টপাধ্যায়! কি দারুণই না লিখেছেন!

দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া
কেবল শুনি রাতের কড়ানাড়া
'অবনী বাড়ি আছো?'

বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস
এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে
পরান্মুখ সবুজ নালিঘাস
দুয়ার চেপে ধরে--
'অবনী বাড়ি আছো?'

আধেকলীন হৃদয়ে দূরগামী
ব্যথার মাঝে ঘুমিয়ে পড়ি আমি
সহসা শুনি রাতের কড়ানাড়া
'অবনী বাড়ি আছো?'

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

বস, খালি পুরানো কথা মনে করিয়ে দেন-

মনে পড়লো, তোমায় পড়লো মনে
বাঁশি বাজলো হঠাৎই জংশনে
লেভেল ক্রশিং এ দাঁড়িয়ে আছে ট্রেন
এখন তুমি পড়ছো কি হার্ট ক্রেন?

দেড়শো মাইল পেরিয়ে গেলাম কাছে
বললে তুমি এমন করলে বাঁচে
ঐ সামান্য বিদ্যাদানের টাকা!
সত্যি, পকেট – ইঁদুর বাদে, ফাঁকা।

এমন সময় বুদ্ধি দিলে ভারি
বসেছিলাম চাঁদের আড়াআড়ি
বললে, এই যে – রাখো তোমার কাছে
তোমার ছবি আমার বাক্সে আছে।

মনে পড়লো, তোমায় পড়লো মনে
বাঁশি বাজলো হঠাৎই জংশনে
লেভেল ক্রশিং দাঁড়িয়ে আছে ট্রেন
অনাবশ্যক পড়ছো কি হার্ট ক্রেন?

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ছোটো,

“বৃষ্টি নামল যখন আমি উঠোন-পানে একা
দৌড়ে গিয়ে ভেবেছিলাম তোমার পাব দেখা
হয়ত মেঘে-বৃষ্টিতে বা শিউলিগাছের তলে
আজানুকেশ ভিজিয়ে নিচ্ছো আকাশ-ছেঁচা জলে
কিন্তু তুমি নেই বাহিরে – অন্তরে মেঘ করে
ভারি ব্যাপক বৃষ্টি আমার বুকের মধ্যে ঝরে!
(শক্তি চট্টপাধ্যায়)"

বৃষ্টি ঝরার কথা ভাবতে ভাবতে এসো ঐ গানটা গাই,
কত স্মৃতি কত কথা মনে পড়ে গেল, বলো ভালো আছো তো?

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

তানিম এহসান এর ছবি

এহহে, সুমন ভাই আগেই বলে দিয়েছেন, “তীব্র কালাহারি” তীব্রতার সাথে টেনে নিয়েছে!

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

তোমাদের ভালো লাগলেই তো মনে আনন্দের বান ছোটে!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

শেখ জলিল এর ছবি

তুখোড়।

যতবার তাকে পাই মৃত্যুর শীতল ঢেউ এসে থামে বুকে
আমার জীবন নিয়ে সে থাকে আনন্দ ও স্পর্শের সুখে!

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ধন্যবাদ, জলিল ভাই!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

তারেক অণু এর ছবি

রতির নেশায় শরীর যখন জাগে
রয় কি সেথায় প্রথম প্রেমের রেশ? আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ধন্যবাদ, তারেক অণু। দেহ ও মনের সখ্যতা ও দ্বৈরথ বড়ই রহস্যময় ও অননুমেয়!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

কাঠের সেনাপতি এর ছবি

অসাধারণ ।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ধন্যবাদ, কাঠের সেনাপতি। আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

কবিতা ভালো লাগল। ছন্দের ব্যাপার-স্যাপার কঠিন লাগে দেখেই বোধহয় কবিতা লেখা থেকে দশহাত দূরে রাখি। তবে আমার মনে হয় ছন্দের পাশাপাশি অনুভব করতে পারাটাই মূল ব্যাপার।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

কবিতা আপনার মনে আনন্দ দিতে পেরেছে এটুকু যদি সত্যি হয় তবে মেনে নিতেই হবে যে আপনার মননে ও বোধে সৌন্দর্যের পিপাসা জেগে আছে। ছন্দের ব্যাপারটি আপনার কাছে যতোটা কঠিন মনে হচ্ছে আদতে কিন্তু ততটা কঠিন নয়। অনুভব করতে পারাটাই মূল ব্যাপার, ছন্দ এই অনুভবের রসায়নে অনুঘটকের কাজ করে!

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

মিলু এর ছবি

দুর্দান্ত!! উত্তম জাঝা!

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ধন্যবাদ মিলু, প্রেরণা পেলাম!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

ইস্কান্দর বরকন্দাজ এর ছবি

চলুক

..................................................................
আমি ছুঁয়ে দিতে চাই সেই বৃষ্টিভেজা সুর...

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- হাসি

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

হাতড়ে ফিরি তীব্র কালাহারি

এইসব আপনি কোত্থেকে পান বস্‌! আমার মাথায় আসেনা।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

অন্ধকার হাতড়ে হাতড়ে পাই, ছোটো!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

ত্রিনিত্রি এর ছবি

কবিতা দেখলে ঢুকতে ভয় করে। ছন্দ, অন্তঃমিল, এইসব একদম বুঝিনা। যেটা পড়লে আবেগের সৃষ্টি হয়, সেটাই আমার কাছে কবিতা।

আপনার কবিতা গুলো বরাবর সুন্দর। এটাও অনেক ভালো লাগলো। বিশেষ করে শেষ চার লাইন।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

যেটা পড়লে আবেগের সৃষ্টি হয়, সেটাই আমার কাছে কবিতা।

বড় ধন্ধে ফেলে দিলেন, আপনার মন্তব্যটি নিয়ে অনেক ভেবেছি। লক্ষ্য করুন, উত্তর দিচ্ছি অনেক সময় পরে। যদি বলি 'আবেগ কবিতার মূলধন', অনেকেই মেনে নেবেন না। যদি বলি 'পরিশুদ্ধ আবেগ' হদয়বাদীরা হয়ত মেনে নেবেন, মননশীলেরা মেনে নেবেন কি? অবশেষে তো বলতেই হয়, 'কবিতা অনেকরকম। কবিতা ও জীবন একই জিনিষেরই দু'রকম উৎসারণ।'

ছন্দ ও মিল তো পাঠককে ভড়কে দেবার জন্য নয় বরং কবিতা পাঠের নেশাকে চারিয়ে দেবার জন্য। কবিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। একটি মহৎ কবিতায় আপনি যে রসবৈচিত্র্যের সন্ধান পাবেন, বিজ্ঞান, দর্শন এমনকি ধর্মসাধনের মধ্যদিয়েও আপনি তা পাবেন না। সে আপনাকে পৌঁছে দিতে পারে সেই আশ্চর্য জগতে, যেখানে অন্য কোন পন্থায় পৌঁছুনো সম্ভব নয়। আইনষ্টাইন যদি আপেক্ষিক তত্ত্ব আবিস্কার না করতেন, অন্য কারুর পক্ষে হয়ত সেটি আবিস্কার করা সম্ভব ছিলো। কিন্তু ভাবুন তো, ভিঞ্চি যদি মোনালিসা না আঁকতেন, অন্য কারুর পক্ষে কি তা আঁকা সম্ভব হতো? আপনাকে ধন্যবাদ!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

কর্ণজয় এর ছবি

সেই ছোটবেলায় নীরেন্দ্রনাথের কবিতার ক্লাশ বইখানা পড়ে কবিতা লেখার শখ চেপেছিল। বিভিন্নজনের লেখায় আপনার মন্তব্য আর আপনার লেখা পড়ে সেই ইচ্ছেটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে যেন...

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

উড়ুক উড়ুক ইচ্ছের অনেক ডানা সোনালি চিলের মতো!

নীরেন বাবুর বইখানা এখনো আমার নিত্যসঙ্গী। ঐ যে,

রেলিঙে আর দেখি না নীল শাড়ি
ভেঙেছ খেলা কবেই দিয়ে আড়ি!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

আশালতা এর ছবি

দুর্দান্তিস।

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ধন্যবাদান্তিস! হাসি

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

হাতড়ে ফিরি তীব্র কালাহারি

আমারও চোখ, মন সবই কাড়লো, কবি!!! চমৎকার!!! চলুক


_____________________
Give Her Freedom!

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

লইজ্জা লাগে

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

ফাহিম হাসান এর ছবি

চমৎকার লেগেছে।

"বিষণ্ণ" বানান এমন হওয়ার কথা না? "কালাহারির" সাথে "বিচ্ছিরি" মিলটা একটু কেমন জানি, কানে খটকা লাগল।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ফাহিম ভাই, ধন্যবাদ!

'বিষণ্ণ' হবে, 'বিষণ্ন' নয়। টাইপো ধরিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ।

'কালাহারি' ও 'বিচ্ছিরি' একটি দূর্বল মিল। কিন্তু 'কালাহারি' শব্দটি পাঠককে কেমন আকৃষ্ট করেছে, দেখেছেন? 'কালাহারি' শব্দটির বিকল্প সন্ধান তাই অভিপ্রেত হবে না বলেই মনে হয়। বাদ রইল 'বিচ্ছিরি'। এমন শব্দ হয়তো চয়ন করা যেত যাতে 'আরি-আরি' মিলে ভাব হয়ে যায়, আমি পারি নি। অক্ষমতা ক্ষমার্হ। তবে লালমোহন বাবুর মতো একটি অনুপ্রাসে পুষিয়ে দিতে কিন্তু চেষ্টা করেছি, 'বিষণ্ণ বিচ্ছিরি'! হা হা হা!

এমন সমালোচনাই তো চাই।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

আমি আসলে কবিতার ফর্মূলা বুঝি না, মানে মাত্রাক্ষর, ইত্যাদি... (অর্থ তো বুঝি আরোই কম)! যেভাবে পড়লে মনে হয় ছন্দ মিলছে, সেভাবেই পড়তে থাকি... একটা জিনিস মনে হয় ছোট থেকেই, কবি যখন কবিতাটা লিখেছিলেন, তখন সেটা ছিল তাঁর কথা; যখন আমি তা পড়ছি, তখন তা আমার... মানে, আমিই যেন বলছি কবিতার কথাগুলো... তাই পড়িও নিজের মতন করে, আর যেইটা পড়ে এমনটা মনে হয় সেটাই ভালো লাগে। এইটা বেশ ভালো লেগেছে...

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

আপনার প্রশংসা করার ধরণটা চমৎকার, আন্তরিক ও মার্জিত!

কবিতার কোন ফর্মুলা আছে নাকি? আমার জানা নেই। আর ছন্দের কথা যদি বলেন, তবে বলি, হৃদপিণ্ডে যেমন সহজাত ভাবেই দুন্দুভি লুকিয়ে থাকে, কবিতার ছন্দও অনেকটা তেমনি। সেটি আত্মস্থ করতে কবিতার উৎস মূলে কান পাততে হয়, চোখে মাত্রা গুনে গুনে হয় না। প্রত্যেক ভাষারই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, তাই ভাষাভেদে ছন্দের প্রকৃতিও ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক। আমাদের পূর্বসূরি ছান্দসিকগণ এ দেশের মাটি, মানুষ, প্রকৃতি ও পরিপার্শ্বের মাঝে যে ছন্দ, যে সুর লুকিয়ে আছে তাকেই মায়ের মুখের ভাষায় নিপুণ বাজাতে আজীবন সাধনা করে গেছেন। তা থেকেই উঠে এসেছে যুতসই মাত্রা বিন্যাস। সুতরাং তাঁরা তো গুনে গুনে শিখেন নি বরং শিখে শিখে গুনেছিলেন। মানে আমি বলতে চাইছি, তাঁরা পরম আগ্রহে কান পেতে যা শুনতে পেয়েছিলেন তাকেই মিটারে মেপে একটা গাণিতিক রূপ দিতে চেয়েছিলেন। পদ্য ও কবিতা তা ধারণ করেছে।

কবির কাজ তো সেই পাখির মতো, যে চঞ্চুতে করে প্রতিদিন এক একটি নতুন স্বপ্নের বীজ বয়ে আনে, বুনে দেয় সত্ত্বার অনন্ত গর্ভসঞ্চারী সবুজ চত্বরে!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

বন্দনা কবীর এর ছবি

দ্বিতীয় চরনটাই মাথায় গেঁথে গেছে।

চমৎকার!!

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

কৃতজ্ঞতা, প্রেরণা দেবার জন্য!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

তাপস শর্মা এর ছবি

ব্যাপক। চলুক

আমিও কবিদের থেকে সাত হাত দূরে থাকি হাসি , হা হা হা। কি বলতে কি বোঝায় তাই বোঝা দায়।
যাই হোক এই কবিতটা আগে দেখিনি, তাই পড়তে একটু দেরি হল। খুবই অর্থবহ এবং শাব্দিকতায় হৃদ্ধ। উপমার প্রয়োগ সাবলীল। বিশেষ করে ২য় স্তবকটা মনে বারবার দাগ কাটে।

অফটপিক-
কবিতা কি আমায় শেষ পর্যন্ত জীবনানন্দের লাশকাটা ঘরের ভুত বানিয়ে ছাড়বে। কেননা লীলেন ভাই এর

‘বৈরাত’

গল্পের মৌলবি সাহেবের কথা আমি শুনেছি। হায় হায় আমার খারাপ দিন শুরু হল বলে মন খারাপ

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ধন্যবাদ তাপস দা,

আমিও কবিদের থেকে সাত হাত দূরে থাকি

তাহলে কি শ্রেষ্ঠ পুরুষ-এর তাপস শর্মা একজন কম্পোজিটার? চোখ টিপি কম্পোজিটারও কখনো কখনো কবি হয়ে উঠে!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

কল্যাণF এর ছবি

রোমেল ভাই শেষের মাত্র চারটা লাইনে যে কত কিছু বলে ফেললেন! শ্রদ্ধা নেন

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

তাই তো! আগে খেয়াল করিনি।
শ্রদ্ধা নিলাম আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- দিলাম!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

সোহেল ইমাম এর ছবি

চমৎকার !!

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।